অস্ট্রেলিয়ায় জনবহুল সুইমিং পুলে নিষিদ্ধ হলো স্মার্ট চশমা
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার আশങ്കায় অস্ট্রেলিয়ার একাধিক কাউন্সিলে পাবলিক সুইমিং পুল ও বিনোদন কেন্দ্রে এআই স্মার্ট চশমার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চ্যাট গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতাসহ যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়ার একাধিক কাউন্সিল জনবহুল পাবলিক সুইমিং পুল এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে এআই চালিত স্মার্ট চশমার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। মূলত ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে প্রযুক্তিটির ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী কাউন্সিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যান্টারবারি-ব্যাংকসটাউন, ব্রিসবেন সিটি এবং ইয়াড়া সিটি। এছাড়া র্যান্ডউইক কাউন্সিলও তাদের ডেজ রেনফোর্ড লেজার সেন্টারে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এসব এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছেন যে জনবহুল স্থানে এই ধরনের প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য একটি বড় হুমকি তৈরি করছে।
ক্যান্টারবারি-ব্যাংকসটাউনের বিলাল এল-হায়েক এই প্রসঙ্গে জানান যে, চ্যাট গ্রুপ, ফেসবুক, স্থানীয় কমিউনিটি ফোরাম এবং টিকটকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নারীরা এই স্মার্ট প্রযুক্তির বিরুদ্ধে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা উভয়ের জন্যই হুমকি বলে মনে করছেন তারা।
ডিজিটাল রাইটস ওয়াত্চের টম সলস্টন বলেন, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে কাউন্সিলগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যেন পাবলিক সুইমিং পুলের মতো জায়গাগুলোকে পরিবারের সবার উপভোগের জন্য নিরাপদ নিশ্চিত করে। অবাঞ্ছিত ভিডিও নজরদারির হুমকি ছাড়াই সবাই যাতে আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
টম সলস্টন আরও বলেন, আমরা সবাই চাই জনসাধারণের সামনে এমনভাবে চলাফেরা করতে যেখানে গোপনে রেকর্ড হওয়ার এবং সম্মতি ছাড়া সেই ছবি ইন্টারনেটে আপলোড হওয়ার কোনো ভয় থাকবে না। এই ধরনের অননুমোদিত রেকর্ডিং জনজীবনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিশেল রাউল্যান্ড মন্তব্য করেন যে, গোপনীয়তা আমাদের সবার জীবনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অংশ। এটি আমাদের মর্যাদা এবং কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই নিজেদের মতো করে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়।
মিশেল রাউল্যান্ড আরও যোগ করেন যে, অন্যান্য প্রযুক্তির তুলনায় স্মার্ট চশমা অনেক বেশি গোপনে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে কেউ কখন আপনাকে রেকর্ড করছে, তা বুঝতে পারা আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার মতো যাতায়াতের বা প্রবেশগম্যতার সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে তারা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে কোনো বাধার মুখে না পড়েন।








