এলজি স্মার্ট টিভির তথ্য সংগ্রহ নিয়ে অভিযোগ ও ব্যাখ্যা
এলজির স্মার্ট টিভিতে ব্যবহারকারীর কথোপকথন ও নেটওয়ার্ক ডাটা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রায় ৫০ হাজার শব্দের শর্তাবলি ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন। তবে এলজি জানিয়েছে, তাদের তথ্য সংগ্রহের সুবিধা ব্যবহারকারীর সম্মতির ভিত্তিতেই চালু করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

এলজির স্মার্ট টেলিভিশন নিয়ে একটি বড় ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এলজি স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীদের গৃহস্থালির কথোপকথন এবং নেটওয়ার্ক ডাটা পর্যাপ্ত ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই রেকর্ড ও সংগ্রহ করে থাকে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্মার্ট ডিভাইসের গোপনীয়তা নিয়ে এই অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম উঠে এসেছে। ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন সার্জ মাত্তা, জাস্টিন ফ্রম এবং স্টিভ বার্ক। এছাড়া এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট এলজি, গেমার্স নেক্সাস, উইচ, ডেইলি মেইল এবং এলজি অ্যাড সলিউশন্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
তদন্ত ও পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এলজি টিভির এসিআর (ACR) ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় সম্মতি দেওয়ার জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ শর্তাবলি রয়েছে। এই শর্তাবলির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার শব্দের। এছাড়া কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় চুক্তি বা সম্মতির বিষয় আসে, যা সম্পন্ন করতে ব্যবহারকারীর প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এত বড় শর্তাবলি সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে পড়ে বোঝা প্রায় অসম্ভব।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি বিশারদ ও সংশ্লিষ্টরা কড়া সমালোচনা করেছেন। এ বিষয়ে সার্জ মাত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "টেলিভিশনের পর্দা যেহেতু এলজির নিয়ন্ত্রণে, তাই টিভির ওপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত স্মার্ট টিভির হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর প্রস্তুতকারক কোম্পানির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে বসে নেই সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক কোম্পানি। এলজি জানিয়েছে, তাদের টিভিতে তথ্য সংগ্রহের এই সুবিধা কোনো জোরপূর্বক বা গোপনে করা হয় না। বরং তাদের টিভিতে তথ্য সংগ্রহের এই সুবিধাটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর সম্মতির ভিত্তিতে চালু করা হয়।
প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং স্মার্ট ডিভাইসের মনিটরিং নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এলজি স্মার্ট টিভির এসিআর ট্র্যাকিং এবং দীর্ঘ শর্তাবলির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের এই ঘটনাটি ব্যবহারকারী ও প্রস্তুতকারক উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।








