অনলাইনভিত্তিক অবৈধ ঋণ অ্যাপের প্রতারণা ও অর্থ পাচার
বাংলাদেশে অনুমোদনহীন অনলাইন ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ পাচার বিস্তার লাভ করেছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এমন অন্তত ৩০টি অবৈধ অ্যাপের সন্ধান মিলেছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের চরমভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক অবৈধ ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের ঘটনা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনুমোদনহীনভাবে ঋণ বিতরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চক্রগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এই ঋণভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সক্রিয় অন্তত ৩০টি অবৈধ অ্যাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব অ্যাপের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অবৈধ অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মাত্র ৬ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে গ্রাহককে ১০ হাজার টাকা শোধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও বড় অংকের ঋণের ক্ষেত্রে শোষণের চিত্র আরও ভয়াবহ। অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার পর গ্রাহককে ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ।
গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলতে এসব অ্যাপ অত্যন্ত সুকৌশলে কাজ করে। এই ঋণের অ্যাপগুলো মুঠোফোনে ইনস্টল করলেই ব্যবহারকারীর মুঠোফোনের সব নম্বর এবং ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য অ্যাপ পরিচালনাকারীদের হাতে চলে যায়।
পরবর্তীতে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের জিম্মি করা হয় এবং ব্ল্যাকমেল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সাইবার অপরাধ ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুমোদনহীন এসব অ্যাপের বিস্তার রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি মুঠোফোনে অজানা অ্যাপ ইনস্টল করার বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








