৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত মীর তানভীরের ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু
৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মীর তানভীর আহমেদ নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের নয় মাস পরও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় তৈরি হয়েছে হতাশা। ইতোমধ্যে এই ক্যাডারের দুই সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যা্ডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মীর তানভীর আহমেদ মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। তার এই আকস্মিক মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদী নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে গত ১৭ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৪৫তম বিসিএসের লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত অপর প্রার্থী মুমতাহিনা মিমু। দীর্ঘ নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর এখনো কোনো নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি, যা সুপারিশপ্রাপ্তদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত এই তথ্যে জানা যায়, ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়েছিল। এই বিসিএসে অংশ নেওয়ার জন্য ৩ লাখ ১৮ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১২ হাজার ৭৮৯ জন এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৬ হাজার ৫৫৮ জন প্রার্থী।
নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও নিরাপত্তা জনিত প্রক্রিয়া প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে। ৪৫তম বিসিএসের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট একটি গোয়েন্দা সংস্থা গত জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুনরায় ভেরিফিকেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে গেজেট প্রকাশে বড় ধরনের দেরি হচ্ছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবদুল বারী এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে সব ভেরিফিকেশন শেষ করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
উল্লেখ্য, মীর তানভীর আহমেদ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মুমতাহিনা মিমু হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই দুই মেধাবী প্রার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রথম আলো পত্রিকার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই বিসিএসের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। তবে বারবার গোয়েন্দা যাচাইয়ের বেড়াজালে আটকে থাকা এই নিয়োগ কবে চূড়ান্ত রূপ নেবে, তা নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত বেকার তরুণ-তরুণীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।








