১৬৩১ সালের ১৭ জুন মারা যান মুঘল সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল
১৬৩১ সালের ১৭ জুন চৌদ্দতম সন্তান গৌহর আরাকে জন্ম দেওয়ার সময় প্রসবজনিত রক্তক্ষরণে মারা যান মুঘল সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল। বুরহানপুরে ৩০ ঘণ্টা প্রসববেদনার পর ৩৮ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৬৩১ সালের ১৭ জুন মুঘল সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল মারা যান। দাক্ষিণাত্যের বুরহানপুরে চৌদ্দতম সন্তান গৌহর আরাকে জন্ম দেওয়ার সময় ৩০ ঘণ্টা প্রসববেদনার পর প্রসবজনিত রক্তক্ষরণে ৩৮ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে একটি বড় মোড় পরিবর্তনকারী মুহূর্ত ছিল।
মমতাজ মহলের জন্মগত নাম ছিল অর্জুমান্দ বানু বেগম। পরবর্তীতে তিনি পরিচিত হন। শাহজাহান ও মমতাজ মহল ১৬১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সময়ে শাহজাহান রাজপুত্র খুররম বা খুররম নামে পরিচিত ছিলেন এবং মমতাজ পরিচিত ছিলেন অর্জুমান্দ বানু বেগম নামে।
সাম্রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনে মমতাজ মহলের গভীর প্রভাব ছিল। তিনি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজকীয় ফরমান বা আদেশ জারি করতেন এবং প্রশাসনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতো।
মুঘল সম্রাটদের স্ত্রীদের মধ্যে মমতাজ মহল সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা ও সম্মান পেয়েছিলেন। মুঘল সম্রাটের প্রত্যেক স্ত্রী মাসিক ভাতা পেতেন। সবচেয়ে বড় অঙ্ক ছিল বার্ষিক ১০ লাখ রুপি, যা শাহজাহান মমতাজ মহলকে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাকে খুবই লাভজনক বহু জমি-জমাও দেওয়া হয়েছিল।
তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রাসাদের জাঁকজমক ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, তবে অন্য কোনো সম্রাজ্ঞীর প্রাসাদ 'খাস মহলে'র মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। এ প্রাসাদে মমতাজ মহল শাহজাহানের সঙ্গে থাকতেন। খাঁটি সোনা ও মূল্যবান পাথরে সজ্জিত এ প্রাসাদে গোলাপজলের ফোয়ারা ছিল।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি পর্দার আড়াল থেকে নিজের প্রভাব বজায় রাখতেন। ভালদেমার হানসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি একটি পর্দার আড়ালে থাকতেন। কোনো বিষয়ে তার মত ভিন্ন হলে তিনি সবার দৃষ্টির বাইরে থেকে সম্রাটের পিঠে হাত রাখতেন। তার সুপারিশে সম্রাট শত্রুদের ক্ষমা করে দিতেন বা মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করতেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো রাজপরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। আবদুল হামিদ লাহৌরির বর্ণনা মতে, দীর্ঘশ্বাসের উষ্ণতা ও অশ্রুর আর্দ্রতায় সূর্যের মতো সম্রাটের হৃদয়ের আয়না, যা কখনো অন্ধকারের মুখ দেখেনি, মরিচা পড়ে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে সম্রাট শাহজাহান ঐতিহাসিক তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেন।








