হরিণাকুণ্ডুতে বিদ্যালয়ের মাঠে পাট জাগ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পাট জাগ দেওয়ায় সেটি ডোবায় পরিণত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ৯০ জন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৭ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কাছারীতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির খেলার মাঠ জুড়ে এখন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিদ্যালয়টির মাঠের একটি বড় অংশে স্থানীয় লোকজন পাট জাগ দিয়ে রেখেছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের মাঠটি ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী ডোবায় রূপ নিয়েছে এবং সেখানে পানি জমে রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন মোট ছয়জন শিক্ষক। আর এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে প্রায় ৯০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। খেলার উপযোগী মাঠটি ডোবায় পরিণত হওয়ায় এবং সেখানে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এই শিশুদের।
স্কুল মাঠের এই ডোবায় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। বিদ্যালয়ের মাঠের এমন বিপজ্জনক অবস্থার কারণে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে বিরতি বা ছুটির সময় শিক্ষার্থীরা অসাবধানতাবশত এই ডোবার পানিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বিদ্যালয়টির এই সার্বিক পরিস্থিতি এবং অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা পিন্টু আলী বলেন, 'বর্ষাকাল এলেই চিন্তা বাড়ে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে ডোবাটি ভরাট করে মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উপযোগী করা অথবা ডোবার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।'
ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরাফাত হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, বসির উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান এবং প্রদীপ্ত রায় দীপনসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। তবে মাঠের এই ডোবা পরিষ্কার করা কিংবা পাট জাগ দেওয়া বন্ধে তাৎক্ষণিকভাবে রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে কাছারীতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের এই ডোবাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাই দ্রুত মাঠটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।








