হরমুজ প্রণালিতে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কথা জানান। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে একটি ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে ইউকেএমটিও।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৩১ আগস্ট) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তথ্য জানান। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমায় দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন প্রশাসন। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক বিকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করছে। এর অংশ হিসেবেই সীমিত পরিসরে সামরিক হামলার বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন নীতি নির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তবে এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা রূপরেখা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও এর সংলগ্ন জলসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি কেবল হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়েছে। ইউকেএমটিও এই ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
শাফাক নিউজ ও অ্যাক্সিওস সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়, যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সর্বশেষ এই চিন্তাভাবনা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার যেকোনো উদ্যোগ এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।








