হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন অংশ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। নিউইয়র্ক থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন ভূরাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চলমান যুদ্ধের জেরে এই অঞ্চলে আগে থেকেই কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে ইরান শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে মূলত পরিস্থিতি এখন তেমনই রূপ নিয়েছে এবং তাদের অবরোধ চলছে। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র না চাইলে ওই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি জুনের সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডামের ৬০ দিনের মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে এই কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামেও এর বড় প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময় আল-জাজিরার সাংবাদিক কিমম্বারি হ্যালকেট জানান, ট্রাম্প কথাটি বলার সময় হাসছিলেন। তাঁর মতে, এটি স্পষ্ট যে তিনি নিজেও বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে বলছেন না। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, ইরানের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা প্রতিপক্ষের পা ভেঙে দেবেন।
ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কাজেম ঘারিবাবাদি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, টুইট করে, বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে এবং এই প্রণালি শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে। ঘারিবাবাদি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেবে এবং অলীক ভাবনাচিন্তা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ ইরান এই অবরোধ কার্যকর রাখবে।
এই সংকটে ইরানের পক্ষে আরও অবস্থান নিয়েছেন আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে ব্রুস ফেইন ও নাটালি ক্লেইন এই পরিস্থিতির আইনি ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন। এই সংঘাতে মার্কিন প্রশাসনের গৃহিত নীতি ও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশের ভেতরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইআরজিসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই সংবাদের ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান এই ধমনী নিয়ে সৃষ্ট সংকট কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








