স্পেনের বিয়েেনা মিউজিয়ামে ব্রোঞ্জ যুগের সোনার গহনা চুরি
স্পেনের অ্যালাকান্টি প্রদেশের বিয়েেনা মিউজিয়াম থেকে ব্রোঞ্জ যুগের অমূল্য সোনার গহনার সংগ্রহ চুরি হয়েছে। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে বিধ্বস্ত।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

স্পেনের অ্যালাকান্টি প্রদেশের বিয়েেনা মিউজিয়াম থেকে ব্রোঞ্জ যুগের অমূল্য সোনার গহনার একটি বিশাল সংগ্রহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ডয়চে ভেলে-র তথ্যানੁযায়ী, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে ২৭ আগস্ট ২০২৬ সালের ভোরের দিকে। ঐতিহাসিক এই চুরির ফলে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে জাদুঘরের একটি জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এবং চুরি শেষে একটি গাড়ি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চার মিনিট, কারণ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে জাদুঘরের অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
চুরি যাওয়া এই দুর্লভ সংগ্রহটি ৫০টির বেশি সোনার বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত। ঐতিহাসিক এই সামগ্রীগুলোর সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। সুদূর অতীতের এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ১৯৬৩ সালে বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ হোসে মারিয়া সোলার আবিষ্কার করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বিয়েেনা মিউজিয়ামের সংগ্রহশালায় রাখা হয়।
এই চুরির ঘটনায় কেবল ঐতিহাসিক ক্ষতিই হয়নি, এর আর্থিক মূল্যও আকাশচুম্বী। ডয়চে ভেলে-র তথ্য অনুযায়ী, চুরি যাওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে কেবল সোনার জিনিসগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ১.৭ থেকে ২ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা এই চুরির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখবার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পর বিয়েেনা মিউজিয়ামের পরিচালক ফ্লুগেন্সিও কার্ডান গণমাধ্যমের কাছে নিজের চরম হতাশা ও কান্নায় ভেঙে পড়ার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারা বেশিরভাগ ধনরত্নই নিয়ে গেছে। আমরা বিধ্বস্ত, এমনকি আমি কাঁপছিও। এটা আমাদের শহরের ঐতিহ্য, আমাদের সম্পদের অংশ।
স্পেনের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে এই दुর্ধর্ষ চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এত দ্রুত অ্যালার্ম বাজার পরও অপরাধীরা পালিয়ে গেল এবং এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া অমূল্য ব্রোঞ্জ যুগের সোনার গহনাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।








