সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা: গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আরেকটি প্রকল্পের কাজ চলছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা ও পঞ্চগড় জেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অবস্থিত তিস্তা সোলার লিমিটেডের উদ্যোগে একটি বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ২০০ মেগাওয়াট (এসি)। দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এই প্রকল্পটি একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৬৫০ একর জমি ব্যবহার করা হয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩৫.৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সহজে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হচ্ছে।
তিস্তা সোলার লিমিটেডের এই প্রকল্পটির আরও একটি ঐতিহাসিক বিশেষত্ব রয়েছে। এটি সুকুকের মাধ্যমে অর্থায়িত বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রকল্পটি কেবল কাগজ-কলমে বা উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি বাস্তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে সফলভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, শুধু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেই নয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিধি আরও বাড়াতে উত্তরাঞ্চলের অন্য জেলাগুলোতেও কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় করতোয়া সোলার লিমিটেডের উদ্যোগে আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাস্তবায়নাধীন এই করতোয়া সোলার লিমিটেড প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ মেগাওয়াট (এসি)। এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উৎপাদন ক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








