সৌদি আরবের জাজান তেল শোধনাগারে হুথিদের ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের জাজান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথিরা। হামলার পর আগুন লাগলেও হতাহতের খবর নেই।
ঢাকাপ্রকাশ: · ২ মিনিট পড়া

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জাজান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিন পর এ হামলার ঘটনা ঘটল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাজানের তেল স্থাপনায় আগুনের ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরামকোর জাজান স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। হুথিদের পক্ষ থেকে এটিকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাজান শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জাজান তেল শোধনাগারটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর দৈনিক অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে একই স্থাপনায় হামলার পর শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল একটি শিল্প পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নোট। ওই হামলায় স্থাপনাটির কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও সামনে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় নতুন হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। এরই মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অবশ্য বলেছেন, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই এর উদ্দেশ্য।
এদিকে হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের জাজান ও ইয়ানবু এলাকায় আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল। এসব হামলা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তেলবাজারে কী প্রভাব পড়বে?
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তবে সর্বশেষ হামলার কারণে সৌদি আরবের সামগ্রিক তেল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের এর আগে জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে কিছু উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
🔴 আপডেট
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাজান স্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও তেল উৎপাদনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
BDRevise24 | আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।







