সুন্দরবন ও পাহাড়ে মোতায়েনের জন্য ‘অর্জুন বাহিনী’ গঠন
পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুন্দরবন ও পাহাড়ি এলাকায় মোতায়েনের জন্য 'অর্জুন বাহিনী' নামে নতুন একটি আপৎকালীন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দফায় ২০০ জনকে নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সুন্দরবন ও পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি আপৎকালীন বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন বিশেষ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে 'অর্জুন বাহিনী'। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই নতুন আপৎকালীন বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই ঘোষণায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সুন্দরবন এবং পাহাড়ের মতো দুর্গম ও সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এই বাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রথম দফায় মোট ২০০ জন সদস্যকে নিয়ে এই 'অর্জুন বাহিনী' গঠন করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া এবং যাঁদের বয়স ৪০ বছরের কম, শুধুমাত্র এমন সাবেক সামরিক সদস্যরাই এই বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি, এই বিশেষ বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে অগ্নিবীরদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই বাহিনীতে প্রথম দফায় অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের সুনির্দিষ্ট এলাকায় মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গঠিত এই ২০০ জন সদস্যের মধ্যে ১০০ জনকে কলকাতায় মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ১০০ জন এবং সুন্দরবন এলাকায় ৫০ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হবে।
নবগঠিত এই 'অর্জুন বাহিনী'র সদস্যদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও বেতন কাঠামোর বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই বাহিনীর প্রধানের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার রূপি। অন্যদিকে, সাধারণ সদস্যদের মাসিক বেতন হবে ২৫ হাজার রূপি। এছাড়া এই কর্মকর্তা ও সদস্যদের বার্ষিক বেতন ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
দায়িত্ব পালনকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিশেষ আর্থিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ডিউটিরত অবস্থায় প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুতর আঘাতের ফলে শারীরিক অক্ষমতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
নতুন এই আপৎকালীন বাহিনী গঠনে সদস্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সৈনিক বোর্ড প্রথম দফায় এই বাহিনীতে প্রয়োজনীয় সদস্য সরবরাহ করবে। সার্বق সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এসব সদস্যকে নিয়ে গঠিত 'অর্জুন বাহিনী' সুন্দরবন ও পাহাড়ের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








