সিন্টার কার্যালয় থেকে নথিপত্র সরানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ
ভারতের মুম্বাইয়ে সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিন্টা) কার্যালয় থেকে নথিপত্র সরানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কুনিকা সদানন্দসহ অন্যান্য শিল্পীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইনি জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানিয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের মুম্বাইয়ে সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বা সিন্টার কার্যালয় থেকে নথিপত্র সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের কার্যালয় থেকে কাগজ ও নথি সরিয়ে নেওয়ার সময় হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়। ঘটনার জেরে অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গত ৪০ বছরে সিন্টার কোনো কমিটির সদস্যদের এমন আচরণ করতে দেখেননি এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে দুঃখিত করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে কুনিকা সদানন্দ বলেন, ভারতের মুম্বাইয়ের সিন্টা কার্যালয় থেকে যখন নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তখন পুলিশকে জানানো হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশ জানায়, দাতব্য কমিশনারের কাছ থেকে নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা কাউকে আটকাতে পারে না। তবে সৌভাগ্যবশত ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) লোকজন সেই টেম্পোটি আটকে দেন, যেখানে সিন্টা কার্যালয়ের কাগজগুলো রাখা হয়েছিল এবং সেটিতে তালা লাগিয়ে দেন।
কুনিকা সদানন্দ অভিযোগ করেন যে, আদালতের আওতাধীন সিন্টা কার্যালয় থেকে কেন নথি সরানো হচ্ছিল এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুনম ধিল্বনের গাড়িতে কাগজ তুলছিলেন এবং এর ভিডিও ধারণ করার সময় পুনমজি তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, পদ্মিনী কোলহাপুরে দাবি করেছিলেন যে তিনি কাগজগুলো নিরাপদে রাখার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সেখানে উপস্থিত অন্যান্য মানুষেরা প্রশ্ন তোলেন যে কার কাছ থেকে এবং কেন সেই কাগজগুলো নিরাপদে রাখতে হবে।
এই পুরো ঘটনা চলাকালে মনীশ চতুর্বেদী, প্রীতি, পুনম ধিল্বন ও পদ্মিনী কোলহাপুরের মতো ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কুনিকা সদানন্দ জানান, পুলিশ প্রথমে নথিপত্রগুলো দেখাতে না চাইলেও অনেক কষ্টে পরে তা দেখায়, যার মধ্যে কিছু কাগজ আদালতের ছিল। তবে আগামী ১৬ তারিখে পরবর্তী শুনানি থাকায় কাগজগুলো তালাবদ্ধ করে রাখার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। পুলিশও কাগজগুলো তালাবদ্ধ করে চাবি নিজেদের কাছে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল, কিন্তু সেই পরামর্শও উপেক্ষা করা হয়।
সংগঠনের সাংবিধানিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে অভিনেত্রী উপাসনা সিং সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সিন্টার সংবিধান অনুযায়ী কমিটির ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সদস্য পদত্যাগ করলে সেই কমিটি ভেঙে যায়। সম্প্রতি ১১ জন সদস্য পদত্যাগ করার পর সিন্টার বর্তমান কমিটি ভেঙে গেছে। চলমান এই সাংবিধানিক সংকটে সংগঠনে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নতুন নির্বাচনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
পরিশেষে কুনিকা সদানন্দ বলেন, যারা অতীতে সিন্টা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মহান শিল্পীরা কখনো ভাবতে পারেননি যে ভবিষ্যতে এমন একটি দিন দেখতে হবে। গত ৪০ বছরে তিনি কখনো কমিটির সদস্যদের এমন আচরণ করতে দেখেননি। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও জানান, কোনো কোনো মন্ত্রীকে ডাকা হয়েছে তা তিনি জানেন না, কারণ পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের কথা শুনছিলেন না। এই পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।








