সিআইআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় কমানো ও যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গত ১৮ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। তবে দুই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বেশি বাড়ানো যাবে, উভয় দেশই তত বেশি লাভবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান যে, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের দামে তিনি সন্তুষ্ট নন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি লজিস্টিক খাতের বিভিন্ন সমস্যার চিত্রও উঠে আসে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৬ শতাংশ। এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক লজিস্টিক ব্যয়ের গড় হার মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ রয়েছে, যা দেশের বাণিজ্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করার জন্য সিআইআই প্রতিনিধিদল দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করে। ডিজিটাল রূপান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।
এছাড়াও, ভারতীয় ব্যবসায়িক নেতারা দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে ল্যান্ড পোর্ট বা স্থলবন্দরগুলোতে বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিং এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিচালনার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআইয়ের সার্বিক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিশেষে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।








