সাড়ে পাঁচ মাস ধরে কমিশনহীন দুর্নীতি দমন কমিশন
গত ৩ মার্চ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের পর থেকেই সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনহীন অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ২২ জুন একটি পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকায় অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত সাড়ে পাঁচ মাস ধরে সংস্থাটি সম্পূর্ণ কমিশনহীন অবস্থায় রয়েছে, যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়েছে এর সার্বিক কার্যক্রমে। দীর্ঘদিন ধরে কমিশন না থাকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের গত ৩ মার্চ। ওই দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেন। তাদের এই একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনার পর থেকেই মূলত শীর্ষ নীতিনির্ধারক শূন্য হয়ে পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংস্থাটির শীর্ষ পদগুলো খালি থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দুদক কমিশনহীন থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই দীর্ঘমেতি স্থবিরতা কাটানোর উদ্যোগ হিসেবে সরকার অবশেষে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ২২ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের নতুন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে।
গঠিত এই পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি এখন নতুন কমিশন গঠনে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কমিটি গঠনের পরও বাস্তবে কমিশন পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়া পর্যন্ত এই স্থবিরতা কাটছে না। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩ মার্চ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর থেকেই মূলত সংস্থাটি নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে গত ২২ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে প্রধান করে যে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠিত হয়েছে, তা এখন দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করবে।








