সার সংকটে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি, কুড়িগ্রামে সার লুট
সার সংকটের স্থায়ী সমাধানে জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক–মজুর সংহতি। এর মধ্যেই কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। আজ সোমবার এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

দেশজুড়ে চলমান তীব্র সার সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে একটি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক–মজুর সংহতি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের নাভিশ্বাস দূর করতে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এই জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, কৃষিনির্ভর এই দেশে কৃষকদের সময়মতো সার না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষিখাতে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কৃষক–মজুর সংহতির সভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ (নীলু) এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম এক যৌথ বিবৃতিতে এই জরুরি সার বিতরণ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান। দেশের বর্তমান কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সারের জোগান নিশ্চিত করতে এই টাস্কফোর্সের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন যে, মাঠপর্যায়ে সঠিক মনিটরিং ও নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এর ফলে সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না।
এদিকে, এই দাবির মধ্যেই দেশের উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের ক্ষোভ প্রকাশ পায়। গত রোববার কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় কৃষকরা। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার একজন ডিলারের মজুত করা গুদাম ভেঙে ফেলেন।
উত্তেজিত কৃষকরা সেই ডিলারের গুদাম থেকে জোরপূর্বক মোট ১৯৭ বস্তা সার নিজেদের মধ্যে নিয়ে যান। সারের চরম ঘাটতি ও ডিলারের কারসাজির অভিযোগে এই আকস্মিক ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
সারা দেশে যখন সার নিয়ে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন কৃষক–মজুর সংহতির নেতারা অবিলম্বে এসব অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।








