সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা
সরকারি চাকরিজীবী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সরকারি চাকরিজীবী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন একটি বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে খুলনায় এই ঘোষণা আসে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন।
ঘোষিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর অংশ হিসেবে প্রদান করা হবে। এ ছাড়া নতুন বেতনকাঠামোয় সব ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই বেতনকাঠামোয় গ্রেডভিত্তিক বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ১০ম গ্রেডের চাকরির শুরুতে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার টাকা এবং এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যদিকে নবম গ্রেডের চাকরির শুরুতে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বেতনের সুফল মিলবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চাকরির শুরুতে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হয়েছে এবং এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৫৮ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্টভাবে জানান যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও নতুন এই বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি শিক্ষক সমাজের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।
কুয়েটের ওই অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা ক্রস বর্ডার এডুকেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এটা চালু করতে পারলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এর ফলে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টিও এ দেশে আমদানি করতে পারবো।"
সব মিলিয়ে নতুন এই বেতনকাঠামো ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি বড় প্রতিফলন ঘটল। খুলনা অঞ্চলের এই বিশেষ ঘোষণাটি দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক খাতের সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধাপে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।








