সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপিত
সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী বিল উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই বিল পাস হলে দাতা তার জীবনকাল পর্যন্ত উপহার দেওয়া সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাতীয় সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিল পাসের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দাতার জীবনকাল পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। সংসদ ভবনে এই সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
উত্থাপিত বিলটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি।
প্রস্তাবিত এই বিলের বিধান অনুযায়ী, কোনো দাতা যেমন পিতামাতা, দাদা-দাদি, সন্তান, নাতি-নাতনি বা স্বামী-স্ত্রী চাইলে তাদের উপহার দেওয়া বা দান করা সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজেদের জীবনকাল পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ওপর তার আইনগত অধিকার ও ভোগ করার সুযোগ বহাল থাকবে।
বিলের শর্তে আরও বলা হয়েছে, দাতার জীবনকাল বজায় থাকা অবস্থায় যদি গ্রহীতা মারা যান, তবে সম্পত্তি ব্যবহারের সেই অধিকার বহাল থাকবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সেই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
আইনমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিশেষ বিধানটি বিদ্যমান সাধারণ দান, মুসলিমদের হবা বা অন্যান্য স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। সকল ধর্মের মানুষের জন্য এই নতুন নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং এটি প্রচলিত আইনগুলোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
সংসদে উত্থাপনের পর বিলটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বিলটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রতিবেদন সংসদে পেশ করবে।








