শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু-পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত
হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬-এর ফাঁকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রীর মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬-এর ফাঁকে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের মন্ত্রীদের এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষিপণ্যের প্রবেশাধিকার। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিগগিরই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। পটেটো অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের সার্বিক বিষয়গুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নতুন আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দেশীয় উৎপাদনের বাজার ও রপ্তানি সম্ভাবনা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের এই নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়ই উপকৃত হবেন। তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে দেশের বাজারে নতুন আলু কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই অভ্যন্তরীণ মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
হংকংয়ের ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬-এর এই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। শিগগিরই বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।








