শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি ও উৎপাদন
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ ভারী শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি আদেশ শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না এবং কারখানার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ ভারী শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং এবং রপ্তানি খাত চরম বিপাকে পড়েছে।
চলমান এই জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্যাসের কম চাপের কারণে টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানার মালামাল নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতিও বাড়ছে।
শুধু কাঁচামাল বা উৎপাদনই নয়, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কারখানার আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপরও। ভোল্টেজ ড্রপ বা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসব আধুনিক ও দামি যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কারখানা মালিকরা।
উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ফলে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলমান গ্যাস-সংকটে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ সময়মতো শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে কারখানার উৎপাদন ও আয় কমে গেলেও অন্যান্য নির্দিষ্ট ব্যয়গুলো ঠিকই বহাল রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন, কারখানার ভবনের মাসিক ভাড়া এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে আয় না থাকলেও উদ্যোক্তাদের এসব নিয়মিত ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের নীতিসহায়তা পেলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন ব্যবসায়ীরা।








