শাহবাগে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন
চাকরি স্থায়ীকরণ ও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ সাত দফা দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমালোচনা করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ আউটসোর্সিং কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
উক্ত মানববন্ধনে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মোট সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এই সাত দফা দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই দাবিগুলো নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং এর আগেও সংশ্লিষ্ট মহলে এ বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সাত দফা দাবি নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এসব দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যারা আসে, তারা কর্মচারী ও শ্রমজীবী মানুষের কথা শোনে না এবং তাদের দুর্ভোগও বিবেচনায় নেয় না। বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বিএনপিও ক্ষমতায় এসে একইভাবে ক্ষমতা পরিচালনা করছে। আপনাদের বলবো, আমাদের সাত দফা মেনে নিন। আমাদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করুন। ১২ হাজার ৫০০ টাকায় একটি পরিবার চলতে পারে না। আমাদের প্রতি বৈষম্যের নিরসন করুন।
কর্মচারীদের এই সমাবেশে বক্তারা বর্তমান বেতন কাঠামো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে একটি পরিবার কোনোভাবেই চলতে পারে না। তাই জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয় ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আশা করেছিলাম। আশা করেছিলাম, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কোনো কর্মচারী থাকবে না। কিন্তু এখনো সেই বৈষম্যগুলো টিকে আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো কর্মচারীদের চাকরি চলে যাচ্ছে। তাই তাদের দাবিগুলো আমলে নিয়ে এই বৈষম্যের নিরসন করতে হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রথার মাধ্যমে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ কর্মচারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। একই সাথে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন হিসাব ও প্রসঙ্গ টেনে ৬৬০ কোটি টাকার রাজস্ব প্রসঙ্গও সামনে নিয়ে আসা হয়। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্তরে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্বের সাথে জড়িত খাতগুলোতে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন।
পরিশেষে, শাহবাগের এই জমায়েত থেকে অবিলম্বে দেশের সমস্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কর্মচারীদের এই যৌক্তিক সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।








