শতবর্ষ পূর্ণ করল ফ্রান্সের ঐতিহাসিক প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষে লড়াই করা মুসলিম সেনাদের স্মরণে নির্মিত প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। ১৯২৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি ফ্রান্সের অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ তার প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। ১৯২৬ সালে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ পথপরিক্রমা পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে এটি শতবর্ষে পদার্পণ করল। এই শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অবদান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষে লড়াই করা মুসলিম সেনাদের আত্মত্যাগের স্মরণে এই মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারানো ও লড়াই করা মুসলিম বীরদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে ফরাসি ভূখণ্ডে একটি মর্যাদাপূর্ণ ইসলামিক স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
এই মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৯২০ সালে ফরাসি পার্লামেন্ট মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়। এরপর দীর্ঘ প্রস্তুতি পেরিয়ে ১৯২২ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নান্দনিক ও কাঠামোগত নানা প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে ১৯২৬ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
১৯২৬ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট গাস্তোঁ দুমের্গ এবং মরক্কোর সুলতান ইউসুফ ইবনে হাসান যৌথভাবে এই মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এটি ফরাসি সমাজে মুসলিম ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়।
প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদের স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এর নকশায় স্প্যানিশ-মোরিশ রীতির স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের সবসময় মুগ্ধ করে। এছাড়া মসজিদটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্রায় ৩৩ মিটার উঁচু মিনার, যা প্যারিসের আকাশসীমায় স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত এক শতাব্দী ধরে প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থানই নয়, বরং ফ্রান্সের মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শতবর্ষ পূর্ণ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করল।








