লক্ষ্মীপুরে এক মাসে যুবদলের দু'বার কমিটি, ১৮ নেতার পদত্যাগ
লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়নে এক মাসের ব্যবধানে দু'বার যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর জেরে নতুন কমিটির ১৮ জন নেতা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার কুশাখালী ইউনিয়নে গত এক মাসের ব্যবধানে যুবদলের কমিটি ঘোষণা নিয়ে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে ওই ইউনিয়নে দুই দফায় যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং দফায় দফায় নেতারা পদত্যাগ করার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে দলটির ১৮ জন নেতা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়নে প্রথম কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
জানা গেছে, ২৬ জুলাই ঘোষিত প্রথম কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং সেই কমিটির ১৬ জন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন। নেতাকর্মীদের পদত্যাগ ও বিতর্কের মুখে ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে সেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৩ আগস্ট কুশাখালী ইউনিয়নে নতুন করে আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে এই ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন এই কমিটিতে রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক এবং মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়া কমিটিতে আবদুর রশিদ, এনায়েত উল্যা, এম আবদুল খালেক, আবদুল মুকিত সোহেল, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলু, জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশিদ, ফারুক হোসেন, ইমন ও সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কনসহ অন্যান্যদের বিভিন্ন পদে রাখা হয়। নতুন এই কমিটিতে মোট ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই নতুন করে বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। প্রকাশিত কমিটির ১৮ জন নেতা পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই পদত্যাগের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পদত্যাগকারী নেতারা। ফারুক হোসেন ও ইমন নামের দুই নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে তাকেই পদ দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ, বিলুপ্তের পর আবার নাটকীয়ভাবে নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি। এমনকি কমিοটিতে স্থান পেতে ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, পদত্যাগের বিষয় এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নতুন কমিটির বিষয়ে এনায়েত উল্যা বলেন, নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসব। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন দাবি করেছেন, রাগ-ক্ষোভে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন, তবে ১৮ জনের পদত্যাগ সত্য নয়। তিনি আরও বলেন, যাদেরকে দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা দলের পরিক্ষিত কর্মী। স্থানীয় রাজনীতিতে এমন অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি পদত্যাগের ঘটনায় কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা ও বিভ্রান্তি বিরাজ করছে।








