রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন: বাস্তবতা ও করণীয়
২০১৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সম্প্রতি রাখাইনে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সার্বিক সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একটি বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক এবং তা মোকাবেলার নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘটিত সেনা অভিযান ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত মোট রোহিঙ্গা নাগরিকদের সংখ্যা ১২ লাখ ২ হাজার ২৪ জন। এই বিশাল জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা মেটাতে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নতুন করে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯০ জন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে সীমান্ত পেরিয়ে নতুন করে মানুষের এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি এবং চীন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ২০২৩ সাল থেকে। এই সময় থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়। এই চলমান অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনগণের ওপর, যার ফলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে এবং প্রত্যাবাসনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে চাপ বজায় রাখা অপরিহার্য। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতের অবসান এবং রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া কঠিন হবে।








