মিয়ানমার কর্কৃৃত রোহিঙ্গা যাচাই ও প্রত্যাবাসন নিয়ে সাম্প্রতিক দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযાનের পর থেকে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
<প>১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত সামরিক অভিযানের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যাচাই এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন দাবির কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানের পর থেকে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতিতে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
<প>
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, ২০১৭ সালের আগস্টে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই দমনপীড়নের পর পাঁচ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। একইসঙ্গে তাদের দাবি অনুযায়ী, আরও দুই লাখের বেশি মানুষ তখনও উত্তর রাখাইনে রয়ে গিয়েছিল।
<প>এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে রোহিঙ্গা যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার মোট ৮,২৮,৮২৪ জনের একটি নাম ও তথ্যের তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর, মিয়ানমার জানিয়েছে যে তারা গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ৪,২৬,৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে। এছাড়া তাদের দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩,০৮,৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
<প>প্রায় নয় বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের এমন একতরফা ও সীমিত পরিসংখ্যানভিত্তিক দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। কারণ ২০১৭ সালের সেই গণবাস্তুচ্যুতির পর থেকে বাংলাদেশ একা এত বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়ভার বহন করে চলেছে এবং বর্তমানে এখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
<প>এদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আন্তর্জাতিক তহবিলের পরিমাণ অত্যন্ত তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এই মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। শরণার্থী ও অভিবাসী আন্দোলন গবেষণা ইউনিট (রামরু বা RMMRU) এবং ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন সূত্রে এই পরিস্থিতির নানা দিক উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারাধীন বিষয়গুলোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
<প>রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জোরালো ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক যাচাই সংক্রান্ত দাবি এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করার ফলে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এক অনিশ্চিত জটিলতার মধ্যে রয়েছে।