রোমান্টিক নাটক ও চলচ্চিত্রে নিষেধাজ্ঞার নোটিশে শোবিজ অঙ্গনে ক্ষোভ
বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রে রোমান্টিক বিষয়বস্তুর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর পাঠানো আইনি নোটিশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিল্পীরা। ডিরেক্টরস গিল্ডসহ সাতটি সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে এই নোটিশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:০২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে একটি আইনি নোটিশ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দেশের চলচ্চিত্র এবং নাট্যশিল্পে রোমান্টিক বা প্রেমভিত্তিক গল্পের নির্মাণ ও সম্প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই আইনি নোটিশটি পাঠান। এই ঘটনার পর থেকেই শোবিজ অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সংগঠন তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
এই আইনি নোটিশের প্রতিবাদে টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন যৌথভাবে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেছে। বিবৃতিতে তারা রোমান্টিক নাটক ও চলচ্চিত্রের ওপর এই ধরণের নিষেধাজ্ঞার দাবির তীব্র নিন্দা জানান এবং বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশের সংস্কৃতি ও সৃজনশীল স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতেই এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনি নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক ও ক্ষোভের সুরে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর মন্তব্যে বলেন, ভাগ্যিস তাঁর প্রেমের নাটক করার মতো বয়স নেই এবং তাঁর কোনো টেনশন নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এখন থেকে হয়তো শুধু পরকীয়ার নাটক হবে অথবা এক স্বামীর চার স্ত্রী একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া ও টিকটক করার গল্প তৈরি হবে। এছাড়া চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হাইজ্যাকের গল্প অথবা শুধু ছেলেরা নাটক করবে এবং মেয়েরা অভিনয় বাদ দিয়ে বাজার থেকে সি-ফুড কিনে রান্না করে টেবিলে পরিবেশন করবে—এমন কটাক্ষ করেন তিনি।
নির্মাভা ও কলাকুশলীরাও এই নোটিশের বিরুদ্ধে তাঁদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। নির্মাতা কৌশিক শংকর দাস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এককালে রোমান্টিক নাটক নির্মাণ করে তাঁরা সুনাম ও দুর্নাম দুটোই অর্জন করেছিলেন। সাধারণ দর্শকরা নাটকগুলো খুব পছন্দ করায় সুনাম হয়েছিল, আর বোদ্ধা দর্শক ও নির্মাতাদের ধারণা ছিল এই সস্তা নাটকগুলো নির্মাণ করা খুব সহজ—এই কারণে দুর্নামও হয়েছিল এবং তারা তাঁদের পাত্তা দিতেন না। ভালো-মন্দ যাই হোক না কেন, তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন যে ভাগ্যিস তখন কেউ তাঁদের এমন কোনো লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়নি।
অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল তাঁর মন্তব্যে এই আইনি নোটিশ পাঠানোর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এক পাগলে কেবল পপুলার হওয়ার জন্যই এই নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং তাঁরা সবাই সেই পাগলকে আরও বেশি পপুলার করে তোলার জন্যই এই ধরনের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে যখন সেন্সর বোর্ড ও সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে রোমান্টিক কনটেন্ট নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যদিকে ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ, অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স এসোসিয়েশন, টেলিভিশন অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন—এই সাতটি সংগঠন যৌথভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই বিতর্কে শহীদুজ্জামান সেলিম, ফরিদুল হাসান, আজাদ আবুল কালাম, রাশেদ মামুন অপু, শিহাব শাহীন, মেজবাহ উদ্দিন সুমন, সাহিল রনি, সাদেক সিদ্দিকী, রাজ্জাক রাজ এবং মাহবুব রহমান মানিকসহ দেশের অসংখ্য নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলী জড়িত রয়েছেন।








