রাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগের অভাব
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রবেশগম্যতা ও সুযোগ-সুবিধার চরম অভাব রয়েছে। প্রায় তিন শতাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী এই বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রবেশগম্যতা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যাপক অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যার মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মো. রিফাত রহমান তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, চার বছরে তিনি লাইব্রেরির বারান্দায় যেতে পেরেছেন কিন্তু ভিতরে ঢোকার কোনো পরিবেশ বা সাধ্য তার ছিল না। তিনি বলেন, দোতলায় ওঠার জন্য কোনো লিফট বা র্যাম্প নেই এবং পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য কোনো ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও নেই। মো. রিফাত রহমান আরও জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-তে সবার জন্য সুশিক্ষা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে, যা লাইব্রেরিতে প্রবেশকেও বোঝায়। এটি কোনো করুণা নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত তাদের অধিকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন বলেন, চার বছরের ক্যাম্পাসে তার সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কোথাও কোনো আলাদা কর্নার বা পড়ার পরিবেশ না থাকা। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল সিস্টেম থাকলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি জানিয়ে আসলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাকসুর প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, তিনি এর আগে উপাচার্য স্যারের সাথে অনেকবার কথা বলেছেন। গত দেড় মাস আগেও বিস্তারিত আলোচনা হলে ভিসি স্যার এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে এখনও কোনো কাজ দেখতে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, শারীরিক অক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং হয়তো বাজেটও পাস হয়েছে, কিন্তু এখনও সেগুলো কেনা হয়নি। উনাদের সদিচ্ছা থাকলেই লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের এসব দাবির বিষয়ে মেহা. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ওদের দাবির প্রেক্ষিতে তারা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনও অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বিষয়টি দেখছেন। খুব সম্ভবত কয়েকদিনের ভেতরে এর একটি ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন, কারণ প্রশাসন অত্যন্ত পজিটিভলি কাজ করছে।
মো. রিফাত রহমান প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে বলেছেন, লাইব্রেরিতে ঢোকার পরিবেশ, একটি ফ্লেক্সিবল ওয়াশরুম এবং দোতলায় রিডিং রুমে যাওয়ার জন্য লিফট বা র্যাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে। আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন প্রশাসন অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন তাদের মূল দাবি।








