রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গভীর রাতে এসএসসির খাতা পুনঃর্নিরীক্ষণ
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গভীর রাতে এসএসসির ইংরেজি ও গণিত খাতা দ্বিতীয় দফায় পুনঃর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। রাতে খাতা দেখার সময় ২৭ জন শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে আনা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গভীর রাতে এসএসসির খাতা দ্বিতীয় দফায় পুনঃর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এই বিশেষ কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন এবং পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এই পরীক্ষায় মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রাজশাহী বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলাফল প্রকাশের পর বোর্ডে মোট ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনঃর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে। এই বিপুল পরিমাণ আবেদন পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের খাতাগুলো নিয়ে বিশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গভীর রাতে খাতা দেখার এই কার্যক্রমে অংশ নিতে ২৭ জন শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে আনা হয়েছিল। রাতে খাতা দেখার কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, তাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং দ্রুত ফলাফল দিতে হবে। এই জন্যই মূলত রাতে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খাতা দেখে আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের মনে হয়েছে বিষয়টি আরও ভালোভাবে দেখা দরকার। ইংরেজি আর গণিতের খাতায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী ফেল করায় সেগুলো দেখতে একটু দেরি হয়েছে।
অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী আরও স্পষ্ট করে জানান, তাদের দেখার কিছু বাকি ছিল এবং সেগুলো দেখা দরকার ছিল বলেই পুনরায় দেখা হচ্ছে। একটি করে খাতা দেখা হচ্ছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বুয়েটের কাছে মার্ক হস্তান্তর করতে হবে এবং সময় একেবারে না থাকার কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দিনে শিক্ষকেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তাদের মনে হয়েছে সুবিধামতো সময়ে সন্ধ্যার পরে তাদের দিয়ে এই কাজ করানো যেতে পারে। বুধবার মার্ক হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা ছিল।
তবে এই গভীর রাতের কার্যক্রমের বিষয়ে বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ অবগত ছিলেন না। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ রাতে খাতা দেখার বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি পৌনে ছয়টার সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গেই অফিস থেকে নেমে গিয়েছিলেন এবং রাতে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়েও পড়েছিলেন। রাত দেড়টার সময় তার ছেলে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ফোনে আসা বিভিন্ন ধরনের মেসেজ দেখায়, যা দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। তিনি এই পরিস্থিতিকে আসলে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সম্পাদিত এই পুনঃর্নিরীক্ষণের কাজ শেষে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুয়েটের কাছে নম্বর হস্তান্তরের পর বোর্ডের পক্ষ থেকে এই ফল চূড়ান্ত করা হবে।








