রাজধানীতে হু হু করে বাড়ছে সুগন্ধি ও পোলাওর চালের দাম
রাজধানীর বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে সুগন্ধি ও পোলাওর চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরও অতিরিক্ত রপ্তানির কারণে দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর বাজারে সুগন্ধি ও পোলাওর চালের দাম হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে চালের এই চড়া দামের বিষয়টি জানা গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা এবং খোলা চাল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দре বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও এই চালের বাজারদর ছিল বেশ কম।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে প্যাকেটজাত পোলাওর চালের কেজি ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওর চাল বিক্রি হতো ১১০ টাকা দরে। এছাড়া ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির এক একটি বস্তা এক মাস আগে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিল, যা বেড়ে এখন ৯ হাজার ৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। হঠাৎ করে চালের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে।
এদিকে চালের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে অতিরিক্ত রপ্তানিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। সাদ্দাম জেনারেল স্টোরের সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, এবার প্রচুর পরিমাণে পোলাওর চাল রপ্তানি করা হচ্ছে। তাই দাম অনেক বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের মতে, রপ্তানি বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারের ওপর।
সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে অন্তত ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪ লাখ টন। ফলে প্রতিবছর উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৬ লাখ টন সুগন্ধি চাল। বিপুল পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও বাজারে কেন দাম বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে এই অনুমোদনের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৯৫৯ টন। শুধুমাত্র গত এক মাসেই দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তথ্য অনুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং কনজ্যুমারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সূত্রে এই চালের বাজার পরিস্থিতির কথা জানা যায়। এছাড়া মোহাম্মদ ইশাকুল হোসাইন ও এ এইচ এম শফিকুজ্জামান এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে উৎপাদন বাড়ার পরও দাম না কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। উৎপাদনে কোনো ঘাটতি না থাকলেও নীতিমালার কারণে চালের বাজার চড়া রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দিনাজপুরে চলতি বছর চিনিগুঁড়া ধান চাষ হয়েছে ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়ার পরও সুগন্ধি ও পোলাওর চালের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।








