রংপুরের কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষে বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বাযেমাঝকুর গ্রামে গোলজার হোসেনের হাত ধরে শুরু হওয়া তেজপাতা চাষ এখন পুরো এলাকায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে ছয় ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এই চাষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং হাজারেরও বেশি কৃষক এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাযেমাঝকুর গ্রামে তেজপাতা চাষ এক সফল অর্থনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণকারী গোলজার হোসেন। বগুড়া থেকে কেনা মাত্র ১৪টি তেজপাতা গাছের চারা দিয়ে তিনি এই চাষের সূচনা করেছিলেন, যা আজ পুরো অঞ্চলে একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
গোলজার হোসেনের এই সফলতার পর বাযেমাঝকুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তেজপাতা চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এই গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ তেজপাতা চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। প্রথম আলো-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই চাষের সফলতা প্রচার হওয়ার পর এলাকার অন্য কৃষকেরাও এতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে কাউনিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মোট ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতা চাষ হচ্ছে। বর্তমানে এই উপজেলার এক হাজারেরও বেশি কৃষক তেজপাতা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন।
তেজপাতা চাষের অর্থনৈতিক দিক অত্যন্ত লাভজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হানিফ আলী, রাশেদুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন, জহরা খাতুন, জিয়াউল হক, তানিয়া আক্তার ও রিয়াজুল হকদের মতো চাষিরা এর সুফল ভোগ করছেন। তেজপাতা চাষ সম্পর্কে জহরা খাতুন বলেছেন, "তেজপাতায় কোনো লস নাই, তেমন খরচও নাই।"
কৃষি তথ্য অনুযায়ী, এক একর জমিতে ১৫০টি তেজপাতা চারা রোপণ করা যায়। এক একর জমিতে তেজপাতা চাষের উৎপাদন খরচ মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এর বিপরীতে প্রতি একর জমিতে তেজপাতা বিক্রি করে বছরে অন্তত ১.৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হয়।
প্রধান ফসলের পাশাপাশি তেজপাতা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে আদা ও হলুদ চাষ করা যায়। সাথী ফসল হিসেবে আদা ও হলুদ চাষ করে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। সব মিলিয়ে দুই একর জমি থেকে গোলজার হোসেনের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা।
কাউনিয়া উপজেলার বাযেমাঝকুর গ্রামের গোলজার হোসেনের হাত ধরে শুরু হওয়া এই তেজপাতা চাষ আন্দোলন আজ স্থানীয় অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই চাষ আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








