রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িতদের শনাক্তে সহযোগিতাকারীদের ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এই ঘোষণা দেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:১৮· ১ মিনিট পড়া

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে মাদক সেবন ও কেনাবেচা রোধে একটি নতুন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদক সেবন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজে তথ্য দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষা এবং মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তারা সবসময় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাদকের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে থেকে মোট সাতজনকে চালান বা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট জানিয়ে প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন যে, মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোপ্রকার ছাড় দেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কিংবা যারা মাদক কেনাবেচা করছে তাদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেন, তবে তাকে ওই ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা এই মাদক সমস্যার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাবিব নামের এক ব্যক্তি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মাত্র কয়েক দিন আগে রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তাদের ক্যাম্পাসেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত দশটার পর বহিরাগতদের কয়েকটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে এসে বসে এবং মাদক সেবন করে।
এই পরিস্থিতিকে শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই নতুন ঘোষণা এবং নগদ পুরস্কারের ব্যবস্থা ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








