রংপুরে চার খুন: ডোপ টেস্ট ও সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মানবন্ধন
রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকায় মানববন্ধন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রংপুর ও ঢাকায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রংপুরে চাঞ্চল্যকর এক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই ডোপ টেস্টের ফলাফল নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের শারীরিক পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। গ্রেপ্তার হওয়ার দীর্ঘ আট দিন পর কারাবন্দি দুই অভিযুক্তের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে ডোপ টেস্ট করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তাদের শরীরে এমফিটামিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দেখা গেছে দুই আসামির শরীরে এমফিটামিনের অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার আট দিন পর আসামিদের মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা এই বিলম্বের মূল কারণ।
বিলম্বিত পরীক্ষার কারিগরি দিক তুলে ধরে সনাতন চক্রবর্তী জানান, এতদিন পর মূত্রের পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। যদি ঘটনা ঘটার দু-তিন দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা করা হতো, তবে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ত। তার মতে, এতদিন পর প্রস্রাব পরীক্ষায় আগে সেবন করা মাদকের উপস্থিতি সাধারণত শনাক্ত হয় না। ফলে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হওয়ার অর্থ এই নয় যে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে মাদক সেবন করেননি।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য তুলে ধরে সনাতন চক্রবর্তী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং তারা যে খুন করেছে তা পুরোপুরি প্রমাণিত। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে নিজেদের জবানবন্দিতেও এই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। অথচ একটি নির্দিষ্ট মহল এই মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো বিষয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে মাদক সেবন করা বা না করার বিষয়ের কোনো প্রভাব পড়বে না।
এদিকে ডোপ টেস্টের এই বিতর্কিত ফলাফলের বিরুদ্ধে এবং সার্বিক ন্যায়বিচারের দাবিতে ঢাকায় সোচ্চার হয়েছে ৭১টি সামাজিক, নারী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নারীনেত্রীরা। এই কমিটিতে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রাগসর, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, নারী প্রগতি সংঘ এবং ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশসহ মোট ৭১টি সামাজিক, নারী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন গণপতি চক্রবর্তী, জহুরুল হক, ফওজিয়া মোসলেম, ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, সালমা আলী, মালেকা বানু, সেলিনা পারভীন, আহসান হাবীব, সঞ্চিতা তালুকদার, মাকসুদা আক্তার লাইলী এবং রাবেয়া খাতুন শান্তি। এ সময় সালমা আলী তার বক্তব্যে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো নারী, শিশু ও দেশের সকল নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।








