যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ২৪ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ঢাকায় ২৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও গভীর ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেছেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাদের সরকার, সরকারের পলিসি এবং ইশতেহারে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে বিগত ৬ মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে কী পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন বিষয়গুলো নোটিশ করা হয়েছে, মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়েই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে বিশেষভাবে ওয়াটার সাপ্লাই বা পানি সরবরাহ, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই খাতগুলোতে মার্কিন সরকার পিপিপি মডেলে বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে সহযোগিতা করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া এই বিষয়গুলো নিয়ে অফিশিয়ালি নোটিশ ও আলোচনা করা হবে বলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।
বর্জ্য থেকে শক্তি বা ওয়েস্ট টু এনার্জি খাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ময়লা-আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেই কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
চায়না কোম্পানির সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৮ মাস-২০ মাসের মধ্যেই ওই কোম্পানি ময়লা-আবর্জনা থেকে ওয়েস্ট টু এনার্জির মাধ্যমে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। ঠিক এই ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন সরকারের সহযোগিতার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্ট করে জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সাধারণত এই বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করে থাকে এবং বৈঠকে সেই বিষয়গুলো নিয়েই কথা হয়েছে। অন্যান্য বিষয় যেমন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সঙ্গে তাদের মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দেখবে।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, সামনের দিনে বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সরকারের যে সুসম্পর্ক রয়েছে, সেই সুসম্পর্ক যাতে আরও গভীর হয় এবং সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রী এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত উভয়েই একমত হয়েছেন।








