যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডอลারে পৌঁছেছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত বাড়তে থাকা এই ঋণ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট বন্ড ও অন্যান্য ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০১৬ সালে এই ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কম। অর্থাৎ তুলনামূলক স্বল্প সময়ে মার্কিন জাতীয় ঋণ দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত ৪১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির গতি কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ৮ শতাংশে। তুলনায় বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর এই অনুপাত ভিন্ন; যেমন—যুক্তরাজ্যের ঋণ ও জিডিপি অনুপাত ১০৩ দশমিক ৬ শতাংশ, চীনের ঋণ ও জিডিপি অনুপাত ১০৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জাপানের ঋণ ও জিডিপি অনুপাত রয়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি।
সিবিও-এর পূর্বাভাস আরও বলছে যে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই জাতীয় ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাজারে সুদের হার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের সুদের হার ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে রয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৫ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ট্র্রেজারি বিভাগের বন্ড বাইব্যাক কর্মসূচি ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস-এর ডেভিড জ্যাকস মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং একসময় না একসময় এই বিল পরিশোধ করতেই হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হলে ২০০৮ সালের মতো অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, ডিজে ব্যাংকের জন ক্যানাভান মনে করেন যে, বন্ড বাইব্যাক কর্মসূচিটি সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা মাত্র, কারণ ট্রেজারি ঋণের বিশাল আকারের তুলনায় এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনও পরিবর্তন আনবে না। এছাড়া রেনে আলব্রেখট উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি রয়েছে, আর তাই সুদের হার নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
তবে এই ধরনের পদক্ষেপের নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মোহামেদ এ এল-ইরিয়ান। তিনি বলেছেন যে, সুদের হার নিয়ন্ত্রণে সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এর অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক পরিণতি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসনের নীতি এবং মার্কিন ট্র্রেজারি বিভাগের কার্যক্রমের মাঝে এই ঋণ পরিস্থিতি এখন মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।








