যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই প্রযুক্তি উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকা এবং চীনের নেতৃত্বাধীন ওয়াইকো—এই দুই বৈশ্বিক প্রযুক্তি উদ্যোগে সম্ভাব্য দ্বৈত সম্পৃক্ততার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে চীনের ওয়াইকোতে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও প্যাক্স সিলিকার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতৃত্বাধীন দুটি আলাদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি উদ্যোগে দেশের সম্ভাব্য দ্বৈত সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং প্রযুক্তির এই বড় দুই শক্তির প্রতিযোগিতার মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবে ঢাকা এই পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চীনের নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ ওয়াইকোতে (WAICO) পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চলতি বছরের ১৬ জুলাই চীনের সাংহাইয়ে ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ওয়াইকো গঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার এই চীন-নেতৃত্বাধীন জোটে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন 'প্যাক্স সিলিকা' (Pax Silica) প্রযুক্তি উদ্যোগেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর বাংলাদেশের কাছে প্যাক্স সিলিকার অংশীদার হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে মার্কিন এই প্রযুক্তির জোটে বাংলাদেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়নি, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই দ্বৈত উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার চেষ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। গত ১৪ আগস্ট বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এমন একটি খসড়া চিঠি তৈরি করেছে। ওই খসড়া চিঠিতে প্যাক্স সিলিকা এবং চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ—উভয় পক্ষের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর সামনে যে কোনো এক পক্ষ বেছে নেওয়ার কড়া আহ্বান জানানো হতে পারে।
রয়টার্সের এই রিপোর্টের পর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কূটনীতিতে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কীভাবে তার কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে, তা নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে টেকশহর ডটকম এবং রেহান আসিফ আসাদ ও আল-আমীন দেওয়ানের মতো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিরা পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যে, চলতি বছরেই গঠিত হওয়া চীনের ওয়াইকো জোটে পর্যবেক্ষক পদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্স সিলিকার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব—উভয় বিষয় নিয়েই বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে কূটনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ চলছে। দুই পরাশক্তির প্রযুক্তিগত এই বলয়ের মধ্যে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








