যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে কমছে পোষা প্রাণীর খাদ্যের অনুদান
যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পোষা প্রাণীর খাদ্য ব্যাংকগুলোতে অনুদান কমছে। আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে অনেক পোষা প্রাণীর মালিক নিজেদের খাবারের চেয়ে পশুপাখির খাবার জোগাড়কেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ার এলাকার স্যালসবুরি ফুডব্যাংকে গ্রীষ্মকালে পোষা প্রাণীর খাদ্যের অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে এসব খাদ্য অনুদানের ওপর। বাথ ক্যাটস অ্যান্ড ডগস হোম কর্তৃপক্ষও তাদের প্রতিষ্ঠানে কুকুরের খাদ্যের অনুদান কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে অনেক সাধারণ মানুষ চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভিকি বাই নামের এক পোষা প্রাণীর মালিক তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাকে অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, হয় তাকে নিজের পশুপাখিকে খাওয়াতে হতো, নয়তো বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হতো কিংবা নিজেকে খাবার দিতে হতো।
ভিকি বাই আরও জানান, তার স্বামী কাজ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেলেও পরে সেই কাজের পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় তারা আক্ষরিক অর্থেই অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটিয়েছেন এবং তার কেবল মনে আছে কীভাবে তিনি কান্না করেছিলেন। আর্থিক অনিশ্চয়তার এই কঠিন দিনগুলোতে পোষা প্রাণীর খাদ্য ব্যাংক কীভাবে তাদের সহায়তা করেছিল, সে কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভিকি বাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ওই পোষা প্রাণীর খাদ্য ব্যাংকটির সহায়তার ফলেই তিনি তার কুকুরগুলোকে নিজের কাছে রাখতে পেরেছিলেন। তারা সেই কঠিন সময় পার করে আবার নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, তিনি এই মুহূর্তে মানসিকভাবে কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও আগামী সপ্তাহে কী হবে তা কেউ জানে না। তার মতে, তার স্বামী চাকরি হারালে বা তিনি নিজে হাসপাতালে গেলে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, কারণ কেউ জানে না ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে।
বেথ ক্যাসল অ্যান্ড ডগস হোম এবং স্যালসবুরি ফুডব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হেইলি ক্রিম্বল জানিয়েছেন, তারা যে ধরনের অনুদান পেয়ে থাকেন, তাতে আর্থিক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। অনুদানদাতারা অনেক সময় নির্দিষ্ট বাজেট বিবেচনা করে কেনাকাটা করেন।
হেইলি ক্রিম্বল ব্যাখ্যা করে বলেন, ৪০টি ক্যাট ফুড পাউচের একটি বাক্সের দাম কুকুরের খাবারের একটি ব্যাগের দামের চেয়ে দৃশ্যত বেশি হতে পারে, যদিও দুটির দাম একই হতে পারে। এই বাস্তবতার কারণে অনুদানদাতারা প্রায়শই সেই বিকল্পগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন।
মারিয়া স্টিভেনসন এই পুরো পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর মানবিক দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন পর্যাপ্ত খাবার পায় তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আর্থিক সংকটের ফলে পোষা প্রাণীর মালিকেরা শুধু নিজেদের জীবন নিয়েই লড়াই করছেন না, বরং তাদের পোষ্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়েও চরম পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।








