যুক্তরাজ্যে নতুন এআই আইনের জোরালো দাবি মানবাধিকার কমিটির
মানবাধিকার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটস। বর্তমান আইন বা নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে পর্যাপ্ত নয় বলে অভিহিত করেছেন কমিটির চেয়ার Alex Sobel.
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৭:০৪· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া মানবাধিকার ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করার জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটস (JCHR) সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে এই নতুন বিল বা আইন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রযুক্তিটির দ্রুত বিস্তার ও সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে কমিটি।
প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কমিটির চেয়ার ও সংসদ সদস্য Alex Sobel। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাজ্যসহ কোথাওই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ধরনের আইনি ও তদারকি পদ্ধতি রয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একেবারেই উপযোগী বা উপযুক্ত নয়।
এআই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে Alex Sobel আরও বলেন, এই প্রযুক্তিকে মানবজীবনের উন্নতিকরণে কিংবা অবনতিতে রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা সম্পন্ন এক অভূতপূর্ব যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি এমন এক গতি ও জটিলতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে যে এর প্রকৃত প্রভাব সঠিকভাবে অনুমান করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এটি পরিষ্কার যে এই মুহূর্তে আমরা এর সম্ভাব্য পরিণতিগুলোর মোকাবিলা করার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছি, পরিণতি যতই ভয়ংকর হোক না কেন। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি সামাল দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এর অংশ হিসেবে অ্যানথ্রপিক (Anthropic) নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডারিও আমোদেয় (Dario Amodei) একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। তার এই পরিকল্পনায় বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ, পুরো শিল্প খাত জুড়ে নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর স্বাধীন তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এআই খাতের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই খাতের গবেষকেরাও। অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগকারী একজন এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন (Jacob Coxon) জানিয়েছেন যে, এই সিস্টেমগুলো তৈরিতে যারা কাজ করছেন, সেই কর্মীরা মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিকার অর্থেই ভীত ও আতঙ্কিত।
এসব বিষয় বিবেচনা করে জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটসের (JCHR) প্রতিবেদনে একটি বড় সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে আইনগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি মাত্র স্বতন্ত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তদারকি সংস্থা (AI oversight body) গঠনের পক্ষে জোরালো সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।








