যুক্তরাজ্যে এনএইচএস ও সামরিক পোশাক তৈরির জোরালো দাবি
এনএইচএস এবং সামরিক বাহিনীর ইউনিফর্ম যুক্তরাজ্যেই তৈরির আহ্বান জানিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ফ্যাশন রাউন্ডটেবিল। ১২০০ জনেরও বেশি মানুষের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৩১· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যে এনএইচএস (NHS) এবং সামরিক বাহিনীর (MoD) সমস্ত ইউনিফর্ম দেশেই তৈরি করার দাবি জানিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে একটি চিঠি জমা দিয়েছে ফ্যাশন রাউন্ডটেবিল। বুধবার লন্ডনে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনটির পাঠানো এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ১২০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই তালিকায় অ্যান্ডি বার্নহাম, বেন ফোগল, প্যাট্রিক গ্রান্ট, কেট হিলস এবং ইয়ান ডানকান স্মিথের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব শিল্প ও কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
চিঠিতে প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এনএইচএস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ ইউনিফর্ম বিদেশেই তৈরি করা হয়। অর্থনীতিবিদদের এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, প্রতি বছর এনএইচএস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউনিফর্মের পেছনে ১২ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৪১ সালে পাস হওয়া ‘বেরি অ্যামেন্ডমেন্ট’ আইনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ইউনিফর্ম আইনগতভাবেই দেশেই তৈরি করে থাকে। এছাড়া স্কটল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ২০২১ সালে স্কটল্যান্ড পিপিই খাতে ১০ কোটি ২৭ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করেছিল এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ৮৮ শতাংশই দেশীয়ভাবে তৈরি হয়েছিল, যা ৬ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ডের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক মূল্য এবং ১৪০০টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল।
অন্যদিকে, ত্রুটিপূর্ণ পিপিই ক্রয়ের পেছনে প্রায় ১ হাজার কোটি পাউন্ড সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে ‘মেক ইট ব্রিটিশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা কেট হিলস বলেছেন, এ ধরনের সরকারি চুক্তি প্রস্তুতকারকদের আরও বেশি মানুষ নিয়োগ করতে এবং দিন আনি দিন খাই অবস্থা থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, হয়তো তিনিই এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি এখানে তৈরি পণ্যের প্রকৃত মূল্য অনুধাবন করতে পারবেন।
‘কুকসন অ্যান্ড ক্লেগ’, ‘প্রাইভেট হোয়াইট ভিসি’ এবং ‘কমিউনিটি ক্লোথিং’-এর মতো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্যাট্রিক গ্রান্ট এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, উৎপাদনের জন্য ভালো দৃশ্যমানতা এবং দীর্ঘমেয়াদী চাহিদাসম্পন্ন স্থিতিশীল ব্যবসার প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় নীতি ঠিক এই কাজটিই করতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
প্যাট্রিক গ্রান্ট সতর্ক করে আরও বলেছেন যে, বর্তমানে আমরা এমন অনেক দেশে প্রচুর জিনিসপত্র তৈরি করছি যাদের সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে স্থিতিশীল সম্পর্ক নেই। যদি কোনো খারাপ কিছু ঘটে যায়, তবে আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতা থাকবে না। আগামী ১০ বছরে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পুরোপুরি প্রভাব বিস্তার করবে, তখন আমাদের সমাজে কর্মসংস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে এখনই চিন্তা করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তার প্রশ্ন, কেন আমরা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত হচ্ছি না?








