যুক্তরাজ্যে আর্গোস চেইন বিক্রি করে দিল সেন্সবেরিজ
যুক্তরাজ্যের পরিচিত খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আর্গোসকে সুইফট পার্টনার্স নামক একটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করেছে সেন্সবেরিজ। ১০ বছর আগে যে দামে কেনা হয়েছিল, তার চেয়ে কম দামে এই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের অন্যতম পরিচিত খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আর্গোসকে সুইফট পার্টনার্স নামক একটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে সেন্সবেরিজ। ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছর আগে যে দামে প্রতিষ্ঠানটি কেনা হয়েছিল, তার চেয়ে কম দামে এই বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই বেচাকেনার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের ব্যবসা জগতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঐতিহ্যবাহী ছাপানো ক্যাটালগ ২০২০ সালের পর আর প্রকাশ করেনি, অর্থাৎ ২০২১ সাল থেকে আর্গোস বিখ্যাত প্রিন্ট ক্যাটালগ মুদ্রণ বন্ধ করে দেয়। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্রেতাদের অভ্যাসও বদলে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, এনরিকো নামের এক ক্রেতা স্মরণ করেন যে ক্রিসমাসের কেনাকাটা করার এটি একটি দারুণ উপায় ছিল এবং তারা স্থানীয় আর্গোসে গিয়ে বিশাল আকারের প্রিন্ট ক্যাটালগ সংগ্রহ করতেন।
তবে বর্তমান বাজারে অনলাইন ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দীদের সাথে টিকে থাকতে আর্গোস তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ২০১২ সালের পর থেকে আর্গোস তাদের স্ট্যান্ডঅ্যালোন বা স্বাধীন দোকানের সংখ্যা ৮৪৫টি থেকে কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ২০০টিতে নামিয়ে এনেছে। এর বিপরীতে, সেন্সবেরিজের নিজস্ব সুপারমার্কেটগুলোর ভেতরে প্রায় ৪৫০টি শপ-ইন-শপ বা দোকানের ভেতর দোকান চালু করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও আর্গোসের বর্তমান অবস্থা নিয়ে নানা মত রয়েছে। ক্যাথরিন শাটলওয়ার্থ নামের একজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষকে যদি পাঁচটি প্রধান হাই স্ট্রিট খুচরা বিক্রেতার নাম বলতে বলা হয়, তবে তারা সম্ভবত আর্গোসের নাম নেবে না এবং এটি মূলত মানুষকে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বিষয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, আর্গোস যখন আত্মপ্রকাশ করেছিল তখন তা আমাদের কেনাকাটার পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং ভিন্নধর্মী কাজের একটি ইতিহাস তাদের রয়েছে।
ডিজিটাল যুগের আধুনিক কেনাকাটার প্রবণতায় অ্যামাজন বা অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে আর্গোসকে। ইমিলি নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি অ্যামাজনকে অনেক সহজ মনে করেন কারণ প্রাইম সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য সরাসরি দরজায় পৌঁছে যায়। জর্জিয়া নামক আরেক ক্রেতা একে পুরোনো আমলের বলে উল্লেখ করে জানান যে তিনি অ্যামাজনেই কেনাকাটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অন্যদিকে জ্যাক কানিংহাম নামের এক ক্রেতা জানান যে মুহূর্তের মধ্যে কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে এবং ডেলিভারির অপেক্ষা করতে না চাইলে তিনি সাধারণত আর্গোস থেকেই তা সংগ্রহ করেন। তবে অ্যামাজন থেকে খুব সস্তা কিছু অর্ডার করলে তা ভুল আকারের আসার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর আর্গোস ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বিক্রি করেছে, যেখানে যুক্তরাজ্যে এক বছরে অ্যামাজনের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন পাউন্ড। বর্তমান বাজারে টিকে থাকা এবং শেয়িন কিংবা টেমুর মতো নতুন প্রতিদ্বন্দীদের সাথে পাল্লা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্গোসের ভূমিকা নিয়ে রিটেইল উইকের হুয়াও রাডোয়েভ মনে করেন যে, এটি আগের মতো বা বাচ্চাদের কাছে ক্রিসমাসের সময়ের মতো আর রোমাঞ্চকর কোনো কেনাকাটার জায়গা নেই। নতুন মালিকানার অধীনে তারা এটিকে আবার সময়ের ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে আর্গোসের ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে। নিকোল নামের এক ক্রেতা মতামত প্রকাশ করেছেন যে, আর্গোসকে যদি টেসকোর মতো অন্যান্য সুপারমার্কেটেও দেখা যেত, তবে তা বেশ ভালো হতো। সব মিলিয়ে, আর্গোসের এই নতুন মালিকানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ খুচরা বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে এখনো যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক পরিবার আর্গোস ব্যবহার করে থাকে।








