মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পতিত জমিতে সবজি চাষে সফল আবদুল মতিন
মৌলভীবাজারের জুড়ী সদরের দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন পতিত জমিতে মালচিং পেপার ও পলিশেড ব্যবহার করে সফলভাবে সবজি চাষ করছেন। তাঁর এই উদ্যোগে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক সবজির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মৌলভীবাজারের জুড়ী সদরের দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন তাঁর পতিত জমিতে সারা বছর নানা ধরনের সবজির চাষ করে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন। নিজ উদ্যোগ ও আধুনিক কৃষিপদ্ধতির মাধ্যমে তিনি আজ স্থানীয়ভাবে সফল চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ২০ শতক নিজেদের এবং ৬০ শতক অন্যের জমি ইজারা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬০ শতক জমির বার্ষিক ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ হাজার টাকা। এই বিশাল জমিতেই শুরু হয় তাঁর সবজি চাষের কার্যক্রম।
আবদুল মতিন তাঁর জমিতে প্রথাগত পদ্ধতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। তিনি মালচিং পেপার ও পলিশেড ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। তাঁর এই আধুনিক কৃষিকাজ দেখতে এবং শিখতে সম্প্রতি উপজেলা কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন জুড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত ২৪ আগস্ট তাঁর বাগানে দিনব্যাপী এক কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
ব্যবসায়ী থেকে সফল চাষি হয়ে ওঠার এই যাত্রায় প্রথমবার উৎপাদনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়। বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। উৎপাদিত এসব সবজি স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা ও লাউ আকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বছরের শুরু থেকে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বাগান থেকে প্রায় এক লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে।
এই কৃষি উদ্যোগে নিয়মিত কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বাগানে নিয়োজিত শ্রমিকের মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা। ব্যবসায়ের পাশাপাশি কৃষি খামার পরিচালনা করে তিনি যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি এলাকার বেকারত্ব দূরীকরণেও ভূমিকা রাখছেন।
নিজের এই সফলতার পেছনের অনুভূতি প্রকাশ করে আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, 'জায়গাটা বেকামা (পতিত) পড়ি আছিল, কামে লাগাইলাম আরকি। সারা বছরই খেতে সবজি থাকে। ঘরে খাওয়ার সবজি কেনা লাগে না বলতে পারেন। আমরা তিন ভাই। বাকি দুই ভাইয়ের পরিবারেও সবজি দিই।'
তাঁর এই বহুমুখী চাষাবাদ ও পারিবারিক সহযোগিতার বিষয়টি স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ কীভাবে একজন মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, আবদুল মতিন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।








