মেলবোর্নে রবীন্দ্রনাথের ডিটেকটিভ নাটক মঞ্চস্থ করল অ্যাক্টোম্যানিয়া
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে প্রবাসী নাট্যদল অ্যাক্টোম্যানিয়ার পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নাটক 'ডিটেকটিভ'। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খাদিজা বীথি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ড্যানডেনং ড্রাম থিয়েটারে স্থানীয় প্রবাসী নাট্যদল অ্যাক্টোম্যানিয়ার পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে ‘ডিটেকটিভ’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা নাট্যদল অ্যাক্টোম্যানিয়ার এটি ছিল দশম প্রযোজনা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন খাদিজা বীথি। প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে যুক্ত রাখতে দলটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসার জন্য দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চলেছে। সুশৃঙ্খল ও গোছানো এই আয়োজনে মোট ২৫ জন অভিনয়শিল্পী মঞ্চে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি, নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন আরও ৪৫ জন কলাকুশলী। দীর্ঘ মহড়া ও কুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নাটকটির নির্মাণশৈলী বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
নাটকটির সফল মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে পরিচালক খাদিজা বীথি বলেন, মেলবোর্নে নাটক করার মানে এই নয় যে এক দিনেই সব শেষ। এর রেশ অনেক আগে থেকে শুরু হয়, পরেও থাকে। এই নাটকটি আমরা পাঁচ মাস ধরে তৈরি করেছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পটি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও আমাদের খুব উৎসাহিত করেছে।
দলটির সঙ্গে জড়িত তরুণ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত রাখার তাদের লক্ষ্যের কথা। তিনি বলেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কলাকুশলীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। নতুনদের পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রতিভা তৈরি করতে পারছি। অভিনয়ের মাধ্যমে মৈত্রী ও দক্ষতা বাড়ানোও আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আজ রবিবার’ নাটকের পর সেই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রযোজনাটিও দর্শকের ভালো সাড়া পেয়েছে।
মেলবোর্নের এই নাটক দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন দর্শকরা। নাটকটি দেখে অভিভূত হয়ে দর্শক দিলরুবা শাহানা বলেন, মেলবোর্নে অ্যাক্টোম্যানিয়ার ডিটেকটিভ দেখে আমি অভিভূত। প্রবাসী নতুনদের অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। আমাদের সংস্কৃতি বিদেশের মাটিতেও এভাবে প্রাণবন্ত আছে, এটা ভেবে খুব আনন্দ লাগে।
আরেক দর্শক লুৎফর রহমান খান নাটকটির প্রশংসা করে বলেন, এত বছর পর আবার মেলবোর্নে এমন নিখাদ বাংলা নাটক উপভোগ করা সত্যিই বড় পাওয়া। নাটকটির নির্মাণশৈলী, আবহসংগীত ও অভিনেতাদের পেশাদারত্ব অসাধারণ ছিল। এই ধরনের নান্দনিক পরিবেশনা প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শেকড়কে আরও শক্ত করে তুলছে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শকরা।








