মেট্রোরেল লাইন-১ ও ৫-এর নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির সংশোধিত প্রস্তাব প্রেরণ
মেট্রোরেল লাইন-১ ও ৫-এর নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর সংশোধিত প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। জাপানের কম সুদে ঋণের বিষয়সহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে প্রকল্প দুটির ব্যয় প্রাক্কলন ও নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির সংশোধিত প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। গত সপ্তাহে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হয়ে এই প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি। মে মাসে এমআরটি লাইন-১ ও ৫-এর ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে এই স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছিল।
এমআরটি লাইন-১-এর মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং এর দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। তবে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বেড়ে হতে পারে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, ডিএমটিসিএলের সংশোধিত প্রস্তাবে এমআরটি লাইন-১-এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, অথচ এমআরটি লাইন-১-এর মূল প্রস্তাবে জাপানের ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮৮ হাজার থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকায়। এছাড়া ডিএমটিসিএলের সংশোধিত প্রস্তাবে এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে জাপানি অর্থায়নের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, যেখানে এমআরটি লাইন-৫-এর মূল প্রস্তাবে জাপানের ঋণ ছিল ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।
প্রকল্প দুটির ব্যয় ও নকশা নিয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, 'বর্তমান ও প্রস্তাবিত নকশার ভিত্তিতে কমিটি অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। এটি কোনো প্রকৌশলগত সমীক্ষা ছিল না। সেই বিশ্লেষণে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্টেশনের নকশাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'প্রকল্পগুলো বাতিল করে নতুন কোনো উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে নতুন করে শুরু করা হলে এত কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।'
প্রকল্পের আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাপান এই প্রকল্পগুলোর জন্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সুদের হার প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুন পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ ও ৫ প্রকল্পে যথাক্রমে ৩ হাজার ১৭৬ কোটি এবং ৫ হাজার ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ এই দুই প্রকল্পে ইতিমধ্যে মোট ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।








