মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৈঠকে রাবারাইজড বিটুমিন প্রযুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ আগস্ট ঢাকার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও এলজিডি-এর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সড়ক নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তাদের দেশের রাস্তায় এক ধরনের রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার মডিফাইড বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতেও রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না। বাংলাদেশ সরকার এই প্রযুক্তি সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করার একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করে বলেন, “মালয়েশিয়ার রাস্তায় এক ধরনের রাবারাইজ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। তাতে করে বৃষ্টিতে রাস্তা নষ্ট হয় না। সরকার এ কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যায়ক্রমে। এতে মালয়েশিয়া কারিগরি সহায়তা দেবে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি বৈঠকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ইভি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেল, সোলার প্যানেল এবং হালাল ফুড খাতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মতো ইনভেস্টমেন্ট করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের জনশক্তি বা কর্মী রপ্তানি সংক্রান্ত বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আলোচিত বিষয় অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হলে দুই দেশের শ্রমবাজার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ছাড়াও তারেক রহমান ও শহিদুল হাসান সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।








