মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আনুষ্ঠানিক নয়
আগামী ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখছে না মালয়েশিয়া। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটিকে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত হবে না। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত রোববার আগামী ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে কূটনৈতিক ও শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন ফাহমি ফাদজিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে মালয়েশিয়া সরকার কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করছে না। ফলে এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও সুনির্দিষ্ট ও দাপ্তরিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিওসিএমএসে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন এজেন্সির সম্পৃক্ততা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হলো।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এর আগেও নানা ধরনের আলোচনা, কোটা পদ্ধতি এবং এজেন্সির সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে চার লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৯ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চার লাখ ৭৬ হাজার ৭৯০ কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। তবে নানা জটিলতার কারণে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার কর্মী যেতে পারেনি এবং পাঁচ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ এবং কর্মী প্রেরel প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে নজরদারি বাড়িয়েছে দুই দেশই। বিশেষ করে মালয়েশিয়া সরকারের এই স্পষ্ট বার্তা প্রমাণ করে যে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্থানীয় কোনো মন্ত্রীর বক্তব্য নয়, বরং উভয় দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
ফাহমি ফাদজিলের এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসী কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বোয়েসলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ড. আবদুল মঈন খান, মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান, তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমদের সংশ্লিষ্ট এই শ্রমবাজারের গতিপ্রকৃতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।








