মানিকগঞ্জে শহীদ মিনার থেকে কিশোর শিহাবের মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জে শহীদ মিনার চত্বর থেকে শিহাব নামের এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের নানা একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা হতে পারে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মানিকগঞ্জ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জে শহীদ মিনার থেকে শিহাব নামের এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিষয়টিও সামনে এসেছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ, মানিকগঞ্জ সদর থানা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মতো বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
নিহত কিশোর শিহাব মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাছ বাজারে মাছ কাটার কাজ করত। তার পেশাগত জীবন ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার নানা আকরাম হোসেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, আমার নাতি বাজারে মাছ কাটে। সেদিন বাজারে যায় নাই। পরে আমাকে বলছে, “নানা ৫০০ ট্যাকা লাগবো”।
আকরাম হোসেন তার নাতির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়ে আরও বলেন যে, কোনো রাজনীতিতে নাই ও বাজারে মাছ কাটে এইটাই ওর রাজনীতি। তা ছাড়া কোনো রাজনীতি নাই ওর। কাস্টমারে মাছ দেয় ও মাছ কাইটা দেয়। কাস্টমার ট্যাকা দেয় ওই ট্যাকা ইনকাম কইরা ও বাড়ি চলে আসে। কোথাও কোনো রাজনীতির মধ্যে ও জড়িত নাই।
শিহাবের পারিবারিক জীবন ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে তার বাবা জানিয়েছেন যে, রোজার ঈদের ছুটিতে শিহাব বাড়িতে আসে। আসার পর সে আমার এই বাড়িতেই থাকে। সে বলছে, আমার ভালো লাগে না, আমি এই যায়গায়ই থাকুম। তার এই কথার মধ্য দিয়ে তার মনের ভেতর চলা কোনো এক ধরনের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এদিকে শিহাবের কাজের জায়গার সহকর্মী বা পরিচিত ব্যক্তি মনির তার কাজের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, ও তো কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না। ও কাজ করতো। শনিবার দিন ছুটি নিছে, পরে ও আর আসে নাই। শুক্রবার ও আমার সঙ্গে কাজ কইরা গেছে। তার এই বক্তব্যে শিহাবের নিয়মিত কর্মব্যস্ততার চিত্র ফুটে ওঠে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি আত্মহত্যা হতে পারে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নিহতের পরিবার শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় শিহাবের নানা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে।








