মাও সে-তুংয়ের শাসন ও চীনের বিপ্লব নিয়ে অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের বই
১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাও সে-তুংয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে প্রায় তিন দশকের বিপ্লবী রাষ্ট্র পরিচালনার। অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের বইয়ে উঠে এসেছে ১৯৪৯ সাল থেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা ও মাও আমলের বিভিন্ন ঘটনা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাও সে-তুং মারা যান। তাঁর এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে প্রায় তিন দশক ধরে চলা মাওয়ের বিপ্লবী রাষ্ট্র পরিচালনার। এই দীর্ঘ সময়ে চীনে ঘটে যায় নানা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন, যা পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতি ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়।
ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল নিয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের লেখা ‘চায়না আন্ডার মাও: আ রেভোল্যুশন ডিরেইলড’ নামক গ্রন্থে। এই গ্রন্থটি ২০১৫ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি চার শ পৃষ্ঠার বেশি বড় একটি বই।
১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই শুরু হয় মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বে নতুন ধারার রাষ্ট্র পরিচালনা। কমিউনিস্ট পার্টির এই ক্ষমতার আরোহণের পর থেকেই দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একের পর এক বড় ধরনের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে থাকে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৫৮ সালে মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বে ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ বা মহা অগ্রাভিযান শুরু হয়েছিল। এই উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা চীনের গ্রামীণ অর্থনীতি ও শিল্পায়নে দ্রুত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও তা পরবর্তীতে এক বড় ধরনের সংকটের জন্ম দেয়।
‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’-এর নীতিগত ও বাস্তবায়নিক ত্রুটির কারণে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে চীনে এক ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই তিন বছরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয় এবং কোটি কোটি মানুষ এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ভিক্ষের ধকল কাটতে না কাটতেই ১৯৬৬ সালে চীনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক বিপ্লব। মাও সে-তুংয়ের আহ্বানে শুরু হওয়া এই সাংস্কৃতিক বিপ্লব চীনের সমাজকাঠামো, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম অস্থিরতা ও গভীর পতন ডেকে আনে, যা পুরো দেশকে একটি বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।








