মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে ট্রানজিট যাত্রী বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো বিমান হাবগুলোতে ট্রানজিট যাত্রী কমে গেছে। এর ফলে সিউল, হংকং, সিঙ্গাপুর ও ইস্তাম্বুলের মতো এশীয় বিমানবন্দরগুলো বিকল্প ট্রানজিট রুট হিসেবে সুবিধা পাচ্ছে এবং যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের রুট পরিবর্তনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) এবং এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিমান হাবগুলোতে ট্রানজিট যাত্রী কমে গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিশ্বের ৪১ কোটি ৭০ লাখ সংযোগকারী বা ট্রানজিট যাত্রীর ১৬ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াতকারী ট্রানজিট যাত্রী এপ্রিল মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিউল, হংকং, সিঙ্গাপুর ও ইস্তাম্বুলের মতো এশীয় বিমানবন্দরগুলো বিকল্প ট্রানজিট রুট হিসেবে সুবিধা পাচ্ছে। ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উঠে এসেছে। এই বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ট্রানজিট যাত্রী আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং ইউরোপগামী রুটে ট্রানজিট যাত্রী বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।
লন্ডনের এভিয়েশন পরামর্শক জন স্ট্রিকল্যান্ড এই বিষয়ে বলেছেন, মানুষ এখন বিকল্প রুট খুঁজছেন, আর এশিয়ার বড় বিমান হাবগুলো স্বাভাবিকভাবেই সেই বিকল্প হয়ে উঠেছে। এশিয়ার অন্যান্য বিমানবন্দরের মধ্যে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি এবং তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
এশিয়ার এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্যাথে প্যাসিফিকের মার্চে যাত্রী সংখ্যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের যাত্রী চলাচল বেড়েছে ৭ শতাংশ। এছাড়া টার্কিশ এয়ারলাইনস, লুফথানসা গ্রুপ ও এয়ার ফ্রান্সের মতো সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করছে।
এসব বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক খাতেও এর প্রভাব রয়েছে। একজন যাত্রী গড়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫৭ ডলার বিমানবন্দরের কেনাকাটা, খাবার ও অন্যান্য বিমান চলাচল-বহির্ভূত খাতে ব্যয় করেন। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলায়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অল্টন এভিয়েশন কনসালট্যান্সি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেফরি গো মন্তব্য করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনগুলো এত কম দামে টিকিট দিচ্ছে যে কিছু যাত্রী আবার ঝুঁকি নিয়ে ওই অঞ্চল হয়ে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজের মতো বিমান সংস্থাগুলোর এই কৌশল বৈশ্বিক বিমান চলাচলের বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।








