মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর গঠিত হয়েছে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি। তবে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগদানের জন্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ পায়নি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সূচনা ঘটিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বহুল আলোচিত এই চুক্তিটি 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' বা 'মক্কা ট্রিটি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় এর কার্যকারিতা ও কৌশলগত দিকগুলো এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ দিন পর, অর্থাৎ গত ৩১ আগস্ট একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সমন্বয়ের কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই ত্রিমুখী প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মহলে নানা সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন দেশগুলোতেও এই চুক্তি নিয়ে জনপরিসরে বিভিন্ন আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানোত্তর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো'-সহ বিভিন্ন সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ন্যাটোর মতো বড় সামরিক জোট কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে এই নতুন চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক কূটনীতির প্রভাব নিয়েও বিশ্লেষকরা বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে আলী রিয়াজ, মোহাম্মদ বিন সালমান, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, শাহবাজ শরীফ, মুহাম্মদ ইউনূস এবং তারেক রহমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রনায়কদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি এই সমীকরণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বা যুক্ত হওয়ার বিষয়ে নানাবিধ গুঞ্জন ও আলোচনা থাকলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'-তে যুক্ত হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে বিভিন্ন আলোচনা চললেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এর আনুষ্ঠানিক কোনো ভিত্তি বা অগ্রগতি এখনও তৈরি হয়নি।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই চুক্তি এবং কৌশলগত কমিটি গঠনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা এই বিষয়ে কোনো ধরনের চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপে যাচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হয়।








