ভার্জিনকে চ্যানেল টানেলে ট্রেন চালানোর অনুমোদন দিল ওআরআর
চ্যানেল টানেলে ইউরোস্টারের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে ভার্জিন ট্রেনসকে ট্র্যাক অ্যাক্সেস বা লাইন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে অফিস অব রেল অ্যান্ড রোড (ওআরআর)। এর ফলে ২০৩০ সালের অক্টোবর থেকে লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী রেল পরিষেবা চালু হতে যাচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

লন্ডনে এক যুগান্তকারী ঘোষণায় অফিস অব রেল অ্যান্ড রোড বা ওআরআর ভার্জিনকে চ্যানেল টানেল দিয়ে ইউরোস্টারের প্রতিদ্বন্দ্বী রেল পরিষেবা পরিচালনার জন্য ট্র্যাক অ্যাক্সেস বা লাইন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি একচেটিয়া ব্যবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে, কারণ ১৯৯৪ সালে চ্যানেল টানেল চালু হওয়ার পর থেকে এতদিন শুধুমাত্র ইউরোস্টারই এই রুটে যাত্রী পরিবহন সেবা পরিচালনা করে আসছে।
নতুন এই অনুমোদনের ফলে ভার্জিন ২০৩০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০৪০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লন্ডন এবং প্যারিস, ব্রাসেলস বা আমস্টারডামের মধ্যে প্রতিদিন মোট ২০টি পর্যন্ত রিটার্ন সার্ভিস বা আসা-যাওয়ার ট্রেন চালাতে পারবে। এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এটি আন্তর্জাতিক রেল বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে।
ওআরআর-এর কর্মকর্তা মার্টিন জোন্স এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবার বাজারে প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধি আনতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদিও এখনও আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে, তবুও তারা ভার্জিন এবং বৃহত্তর শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক পরিষেবা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
ভার্জিন গ্রুপের একজন মুখপাত্র তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জানিয়েছেন, ২০৩০ সাল থেকে নতুন একটি লন্ডন-ইউরোপ রেল পরিষেবা চালুর তাদের পরিকল্পনা বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ওই মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা ওআরআর-এর পক্ষ থেকে আমাদের ট্র্যাক অ্যাক্সেস চুক্তিটির পূর্ব-অনুমোদন এবং চ্যানেল টানেলে প্রতিযোগিতা ও ভার্জিনের পুরস্কার বিজয়ী গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার এই সুযোগকে স্বাগত জানাই।
এদিকে চ্যানেল টানেলের এই বাজারে ভার্জিনই একমাত্র নতুন খেলোয়াড় নয়। ইতালির এফএস ইতালিয়ানে গ্রুপও আগামী ২০২৯ সাল থেকে ট্রেনিতালিয়া ফ্রান্সের মাধ্যমে চ্যানেল টানেল দিয়ে ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে চ্যানেল টানেল রুটে যাত্রী সাধারণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই কার্যক্রমে হিটাচি রেল ও অ্যালস্টমের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও উঠে এসেছে, যা এই খাতের প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। চ্যানেল টানেল দিয়ে বছরে প্রায় ৩ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারে এবং নতুন এই প্রতিযোগিতামূলক সেবা চালুর ফলে যাত্রীরা আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা ও বিকল্প পাওয়ার আশা করছেন।








