ভারতকে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার আহ্বান সারজিস আলমের
ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে মর্যাদা, ন্যায় ও সমতার ওপর জোর দিয়েছেন সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সারজিস আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই সম্পর্ক কোনোভাবেই একপাক্ষিক বা অসম হতে পারবে না। বরং তা হতে হবে সম্পূর্ণভাবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বক্তব্যে সারজিস আলম শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই প্রক্রিয়ায় হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আচরণ ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে এবং পরে গেলে ক্ষতি হবে—এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি কখনোই মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ হতে পারে না। সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি এই ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে কথা বলার সময় সারজিস আলম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি প্রদান করেছে, তাকে তিনি সাধুবাদ জানান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের শক্ত অবস্থান ও বক্তব্য শুধু বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না, বরং তা দেশের বাস্তব কর্মকাণ্ডেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
সারজিস আলম আরও বলেন, ভারত যদি সত্যিই সমতা, মর্যাদা, ন্যায় এবং পারস্পরিক স্বার্থের সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তবে তাতে বাংলাদেশের কোনো ধরনের আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি, নির্দিষ্ট কোনো দল কিংবা তাবেদারিত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার অপচেষ্টা চালানো হয়, তবে সেই সম্পর্ক কখনোই টেকসই হতে পারবে না।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অবশ্যই দুই দেশের সাধারণ জনগণ এবং দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতেই পরিচালিত হতে হবে। এই সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বিশেষের কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দলের সংকীর্ণ স্বার্থে নির্ধারিত হতে পারে না।
উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সারোয়ার তুষার, এসএম সুজা উদ্দিন, রিফাত রশিদ এবং আবু বাকের মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা এই আয়োজনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।








